হবিগঞ্জ পুলিশের অনন্য দৃষ্টান্ত অতিরিক্ত পুলিশ অতিরিক্ত সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা ॥ বড় বড় দীর্ঘদিনের বিরুদ্ধ নিষ্পত্তি করে দিচ্ছেন। আইসিটি নিউজ

আইসিটি সংবাদ

আইসিটি নিউজ: আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হবিগঞ্জ সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রবিউল ইসলামের বিশেষ ভূমিকায় চরনুর আহম্মদ গ্রামের দু’পক্ষের জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা নিস্পতি হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, চরনুর আহম্মদ গ্রামে হিরাজ মিয়া একটি বিরোধপূর্ণ প্রকৃত জমির মালিক। তিনি মৌরশী সত্ত্বে জমিটি প্রাপ্ত। টাকার প্রয়োজনে তার জমিটি বিক্রয় করেন একই এলাকার হাজী মোঃ আব্দুল মতিনের কাছে। মতিন জমিটি কেনার পর দখল নিয়ে তৈরী হয় নতুন সমস্যা।
হিরাজ মিয়ার অপর দুই ভাই আপত্তি করেন তাদের বাড়ী হতে বের হওয়ার রাস্তা নির্ধারণ করে আব্দুল মতিনকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। হিরাজ মিয়া ও তার ভাইয়েরা রাস্তাটি দক্ষিণ দিকে চাইলেও আব্দুল মতিন তাতে মানতে না-রাজ। তিনি তার কেনা প্লটের দক্ষিণ দিকে রাস্তা দিবেন না। দিবেন উত্তর দিকে। এ নিয়ে তাদের মাঝে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকে। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন চেষ্টার পর কোন সুরাহা না হওয়ায় আব্দুল মতিন অভিযোগ করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের বরাবরে।
পুলিশ সুপার অভিযোগটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেলের কার্যালয়ে প্রেরণ করলে করেন। এ প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা বসেন। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয় ঘটনাস্থল পরিদর্শনের।
এরই প্রেক্ষিতে গত সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন চরনুর আহম্মদ সাকিনে হাজী মোঃ আব্দুল মতিন এবং মোঃ হিরাজ মিয়াগংদের বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
পরে তিনি উভয়পসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুনরায় বৈঠকে বসেন। আলোচনা পর্যালোচনা শেষে উভপরে সুবিধামত জায়গায় রাস্তা তৈরী করার জন্য সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং রাস্তার জায়গাটিও তিনি নির্ধারণ করে দেন।
উভয়পক্ষ সিদ্ধান্তে একমত পোষন করেন। এভাবেই নির্ধারণ হয় রাস্তা তৈরীর জায়গা। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আওতায় দ্রুত সময়ে সমাধান হয় দীর্ঘদিনের পুরানো বিরোধ। অতিরিক্তি পুলিশ সুপার এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন- সকলকে “তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মামলা মোকদ্দমা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজের বিবেকের আদালতে নিজেকেই জেরা করি তাহলেই সমাধান আসবেই। দাঙ্গা-হাঙ্গা মানুষকে ধ্বংশ করে দেয়। এই দাঙ্গা-হাঙ্গা প্রতিরোধে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। পুলিশকে সকলের সহযোগিতা করা উচিত। তিনি আরো বলেন-উন্নত দেশগুলোতে এ ধরণের দাঙ্গা নেই। তারা একে অন্যের সাথে শোহারদপূর্ণ সম্পর্কে বজায় রেখে জীবন-যাপন করতে পারলে। তাহলে আমরা কেন পারবো না , আমাদের পারতেই হবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *