মৌলভীবাজার কমলগঞ্জে কুরমা বিটের বনাঞ্চলে চুরাকারবারিরা সক্রীয় ,রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আইসিটি নিউজ

অপরাধ ও দুর্নীতি

আইসিটি নিউজ: শেখ সাহেদ মিয়া,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: 

 মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত এই কুরমা বিট।
 কমলগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ইসলামপুর ইউনিয়নে অবস্হিত এই বনটি।
বিট অফিসের অধীনে রয়েছে বিস্তৃত বনাঞ্চল মূল্যবান গাছপালার দ্বারা গঠিত হয়েছে এই বনটি।সীমান্ত ঘেষা এই বিস্তৃত বনে রয়েছে অতি মূল্যবান সেগুন গাছ।
গুরুত্বপূর্ন এই বনটি পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে এমন খবরে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায় বনের কিছু জায়গায় মুল্যবান কাটা স্তুপ করে রাখা আছে।
সীমান্তের পাশে গড়ে উঠা এই বনভূমিটি পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকাতে হওয়ায় যোগাযোগের ব্যবস্থা খুবই খারাপ।তাই এই পাহাড়ি এলাকাটিতে সাধারন জনগনের চলাচল কম।সাধারন জনগনের চলাচল কম থাকার কারনে বনবিভাগের লোকজন কৌশলে বনটি নষ্ট করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর কিছু লোকের সাথে কথা বলে জানাযায় বনটিতে রয়েছে মূল্যবান সেগুন কাঠ যেটি পাঁচারকারীদের মূল লক্ষ।কারন হিসাবে বলেন কাঁঠটির উচ্ছাবিলাশী মূল্যই পাঁচারকারীদের উৎসাহের মূল কারন।
 জানাযায় এই কাঁঠ প্রতি ফুট এলাকায় (৪-৬)হাজার টাকায় বিক্রি হয় এবং কাঁঠটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে।এলাকাবাসীরা বলেন সংঘবদ্ধ কাঁঠ পাঁচারকারী চক্রের সাথে রয়েছে বনবিভাগের সম্পর্ক।বনবিভাগের সাথে গভীর সম্পর্ক স্হাপনের মাধ্যমে সুপরিকল্পিত ভাবে উজাড় করছেন বনটি।এরফলে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এই বনটি যার প্রভাব পড়ছে প্রকৃতির উপর।
স্থানীয়  বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন বনের ভিতরে চলাচল সাধারন জনগনের জন্য নিরাপদ নয় বনের ভিতরে সবসময় চোরাকারবারী দলের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্হায় থাকে।তারা বলেন এখানে বহিরাগত ও মিডিয়ার লোকজন প্রবেশে প্রান নাশের সম্ভাবনা থাকে।এলাকাবাসী বলেন কিছুদিন আগে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এক সংবাদ কর্মী বনের ভেতর অংশে প্রবেশ করতে গেলে গভীর জঙ্গলের ভিতর হইতে চুরাকারবারিরা গুলি ছোড়ে তাই তিনি প্রান রক্ষার্থে লোকালের দিকে এসে প্রান রক্ষা করতে সক্ষম হন।এবিষয়ে বিট এলাকা ঘোরে দেখা যায় বিভিন্ন জায়গায় স্তুপাকার কাটা কাঁঠ পড়ে আছে।স্তুপাকার কাঁঠের বিভিন্ন স্তুপ হতে কাঁঠ সরানো হয়েছে এমন অবস্হা দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে স্হানীয় বাসিন্দা ও কুরমা বিট অফিসের ফরেষ্ট বিভাগের হেডম্যান করুন চাকমা বলেন স্তুপ থেকে কাঁঠ গড়িয়ে পড়ে যাওয়াতে এরকম হয়েছে।স্হানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে স্হানীয় বাসিন্দা ও এই অফিসে কর্মরত থাকার কারনে কাছে থেকে সবকিছু দেখছেন এখানে কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অবহেলা কখনও চোখে পড়েনি।তিনি বলেন বিভিন্ন জায়গায় স্তুপকরা যে কাঁঠগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো বিভিন্ন সময়ে আটক করে অকশনের জন্য রাখা হয়েছে।অকশনের জন্য রাখা কাঁঠে কোন প্রকার ব্লগ বা চিহ্ন না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসের কারনে কিছু প্রকৃয়া সম্পন্ন করতে দেরি হওয়াতে এটি হয়েছে।যতাযত প্রকৃয়া শেষে এটি ব্লগ দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে অকশন করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে কুরমা বিট অফিসের বিট কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম বলেন তিনি কর্মস্থলে নুতন এসেছেন তাই এই দূর্গম পাহাড়ী জঙ্গল দ্বারা গঠিত বিট এলাকার সার্বিক বিষয়ে ধারনা পেতে একটু সময় লাগছে।তবে চুরা কারবারিদের সাথে বিট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়টি তুলে ধরে জানতে চাইলে তিনি বলেন কর্মক্ষেত্রে আসার পর হতে তিনি বনাঞ্চলটি রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করছেন।এছাড়াও বলেন সামাজিক বনায়নের দ্বারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য তিনি সকল প্রকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বলেন বনাঞ্চলটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব প্রপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *