নাচোলে কৃষি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক। আইসিটিনিউজ বিডি২৪

জাতীয় শিল্প ও সাহিত্য

আইসিটিনিউজ বিডি২৪: মোঃ মনিরুল ইসলাম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সানপুর, পাহাড়পুর, ফুলবাড়ি, মিড়কাডাঙ্গা গ্রামে ও বনী বিলে আবাদি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে রাতারাতি পুকুর খননের দৃশ্য দেখা গেছে। কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে এখন অনেকটা জলাশয়ে পরিণত করা হয়েছে। জলাশয়ের চারপাশে রয়েছে উঁচু পাড়। আর এসব উঁচু পাহাড়ের কারণে পাশের আবাদি জমি জলবদ্ধতায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ কৃষক। অথচ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে কৃষি জমি যতটুকু সম্ভব রক্ষা করতে হবে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জমির প্রকৃতিগত কোন পরিবর্তন আনা যাবে না।

সরেজমিন বনীর বিলে গিয়ে পাশের আবাদি জমির কৃষক মল্লিকপুর বাজারের জয়নালের ছেলে কান্তুর সাথে কথা এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, বনী বিলটিতে ধানের চাষ ভালো হয়। কিন্তু ফতেপুর বাজারের সাইফুল এবছর স্থানীয় কিছু লোকজনের কাছ থেকে কৃষি জমি তিন বা ১০ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে সেখানে ৩টি পুকুুরের (যার পরিমাণ প্রায় ৪০ বিঘা) খনন কাজ শেষ করেছেন। পুকুর খননের ফলে আশেপাশের জমিতে আমন ধান চাষে জলবদ্ধতা তৈরি হবে।

বনী বিলের পাশে থাকা আবাদি জমির অপর এক কৃষক মনিরুল বলেন, আমার জমির পাশে সাইফুল ইসলাম আইন অমান্য করে ৩টি বড় বড় পুকুর খনন করেছেন। এই পুকুর খননের ফলে সামনে আমার জমিতে বোরো ধান চাষ করতে পারব কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে মিড়কা ডাঙ্গা গ্রামে। মল্লিকপুর বাজারের জাহাঙ্গীর আলম সিন্দুর মুচি খাড়ির রাস্তার ধারে আবাদি জমি লিজ নিয়ে প্রায় ৩০ বিঘার মত পুকুর খনন কাজ শুরু করেছেন।

বনীবিলে পুকুর খনন করা সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমির মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করেছেন তিনি। তবে জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য কোন আবেদন করেননি বলে জানান তিনি।

সিন্দুর মুচি খাড়ির রাস্তার ধারে পুকুর খনন করা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসরাইল হকের কাছে থেকে জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন কাজ শুরু করেছেন। তবে জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য তিনিও কোন আবেদন করেননি বলে জানান।

নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করা যাবে না। যারা করতে ইচ্ছুক, তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। আমি পুকুর খননের বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। পুকুর খনন বন্ধ না হলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *