হবিগঞ্জের রশিদপুরে তেলবাহী ট্যাংকলরী থেকে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি :: ৭ দিনের ধর্মঘটের ডাক। আইসিটিনিউজ বিডি২৪

অপরাধ ও দুর্নীতি

আইসিটিনিউজ বিডি২৪ঃ আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শ্রম অধিদপ্তরের একটি লাইসেন্সের দোহাই দিয়ে মিরপুর ও ভাদেশ্বরের দুই প্রভাবশালীর নেতৃত্বে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর বড়গাঁও গ্যাস ফিল্ডের তেলবাহী ট্যাংকলরি থেকে চাঁদাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দুই প্রভাবশালীর পক্ষে চাঁদার টাকা তুলে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের প্রফুল্ল পালের পুত্র মিঠু পাল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০টি ট্যাংকলরি থেকে চাঁদা ওঠে। সেই চাঁদার টাকা সন্ধ্যার পরে নতুন বাজারের পাল ট্রেডার্সে বসে ভাগ-বাটোয়ারা হয়। যার যার ভাগের টাকা রাতেই মিঠু সংশ্লিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেন।
 নতুন বাজারের এই পাল ট্রেডার্সের মালিক হচ্ছেন মিঠু পাল। তাকে সহযোগিতা করছে বড়গাও গ্রামের আলী হোসেন নামের এক কথিত শ্রমিক নেতা।
এসব অভিযোগে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা একটি মামলা করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন বাজারে নামকাওয়াস্তে প্রতিষ্ঠিত কাপড়ের দোকান পাল ট্রেডার্সে শুধু ট্যাংকলরি থেকে আদায় হওয়া চাঁদার টাকাই ভাগ বাটোয়ারা হয় না বিভিন্ন অপকর্মের পরিকল্পনাও হয়। বিশেষ করে নতুন বাজারে প্রতিষ্ঠিত ওমেরা গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানি ও ভার্টেক্স কাগজ কোম্পানিতে কে কে কাজ পাবে তা ঠিক করা হয়। যারা যারা কাজ পাবে তাদেরকে অবশ্যই মিঠু পালের কাছে চাঁদা দিতে হয়। সেই চাঁদার টাকাও ভাগ হয় বলে অভিযোগ আছে।

ক্ষমতাশীন দলেন দুই প্রভাবশালীর অনৈতিক কাজের ক্যাশিয়ার হয়ে মাত্র ক’দিনেই কোটিপতি বনে গেছে মিঠু পাল। অথচ এই মিঠু পাল কিছুদিন আগেও ঠিকমত খেতে পারত না। পরিস্থিতি উত্তরণে সে প্রথমে সুদের কারবার শুর করে।

এরমধ্যে প্রভাবশালীরা ক্ষমতায় আসলে কপাল খুলে যায় মিঠু পালের। ভিড়ে যায় তাদের শিবিরে। ক্যাশিয়ার হয়ে শূন্য  থেকে কোটিপতি হয়ে যায় মিঠু পাল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই প্রভাবশালী, মিঠু ও আলী হোসেন গ্রুপের মাত্রাতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন ট্যাংকলরি শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা চাঁদা না দেয়ায় তাদেরকে মারধোর করা হয়। এর প্রতিবাদে  ট্যাংকলরি শ্রমিকরা সাতদিনের ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে বাহুবলে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে উপজেলা প্রশাসন।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হকের কথাশুনে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা পুরোপুরি আশ্বস্থ হতে না পারলেও সাতদিনের ধর্মঘট আর হয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ট্যাংকলরিগুলো বাহুবল পার করে দিচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ট্যাংকলরি শ্রমিকদের এই অসন্তোষ কাটাতে বাহুবল উপজেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তরের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মৌলভীবাজারের বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও ট্যাংকলরির শ্রমিক সংগঠনের সিলেট এবং বাহুবলের ভাদেশ্বর অংশের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসে। বৈঠকে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও বাহুবল থানার ওসি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ট্যাংকলরি শ্রমিকদের সিলেটের সংগঠন ও ভাদেশ্বরের সংগঠন একে অন্যের প্রতি নানা অভিযোগ এনে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে অবৈধ বলেছে। সব বাকবিতন্ডা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, রাস্তায় ট্যাংকলরি থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না। স্ব স্ব ইউনিয়নের ট্যাংকলরি অফিসে চাঁদা দিতে হবে।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক বলেছেন, তেল হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। বাহুবলের তেল দেশের উত্তরবঙ্গে যায়। একদিন তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে গোটা উত্তরবঙ্গ অচল হয়ে পড়বে। এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ঠিকঠাকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হবে। বাহুবলের তেলখাতকে ঘিরে অন্যায় চাঁদাবাজি বন্ধ করে ছাড়ব।

এ ব্যাপারে জানতে মিঠু পালের মোবাইলে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *